Goodman Travels

ভাঙ্গুড়ার সাংবাদিক মানিক হোসেনকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর নেপথ্যে!

সাংবাদিক মানিক হোসেন

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার মানিক হোসেন একজন সক্রিয় সংবাদ কর্মী। একটি জাতীয় দৈনিক,কয়েকটি স্থানীয় ও অন-লাইন পত্রিকায তিনি নিয়মিত সংবাদ প্রেরণ করেন। সেই সুবাদে তিনি ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের সদস্য পদ পান। তার দরিদ্র পিতা ইসমাইল হোসেন একজন মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী। তাদের বাড়ি উপজেলার ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কৈডাঙ্গা গ্রামে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি বেকারত্ব দুর করতে সম্প্রতি তিনি নিজ মটরসাইকেল ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করেন।

 

ইলেক্ট্রিক মেকানিক হিসাবেও তিনি কাজ করেন। তবে সাংবাদিক হিসাবে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় মানিক হোসেন এক নামে পরিচিত। তিনি স্বল্প সময়ের মধ্যে মফ:স্বল সাংবাদিক ফোরামের উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। সুনিপুন লেখা ও বস্তুনিষ্ঠসংবাদ পরিবেশনের কারণে পাবনার সাবেক জেলা প্রশাসক মোঃ জসিম উদ্দিন গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিক হোসেন কে পাবনা-৩ এলাকায় সাংবাদিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেন। ডিসি মহোদয় ভাঙ্গুড়া উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা এম.হোসেন আলী অডিটোরিয়ামে এসডিজি’র উপর দিন ব্যাপি গুরুত্বপুর্ন কর্মশালায় সাংবাদিক হিসাবে কেবল মানিক হোসেনকেই অন্তর্ভুক্ত করেন।

এছাড়া মানিক হোসেনের নিকট থেকে পাবনার স্বনামধন্য কয়েকজন সাংবাদিক প্রায় নিয়মিত এলাকার সংবাদ সম্পর্কিত নানা তথ্য জেনে নেন। সেগুলো যেমন দেশের শীর্ষ পত্রিকাগুলোতে প্রকাশ হয় তেমনি মানিক হোসেন যেসব পত্রিকায় কাজ করে সেখানেও ঐ সংবাদ গুরুত্বের সাথে ছাপা হয়। যার ফলে মানিক হোসেন স্থানীয় কতিপয় সংবাদকর্মীকে টপকিয়ে এগিয়ে যায়। এটাই হয়ে ওঠে ভাঙ্গুড়ার কথিত ‘এক সাংবাদিক জুটির’মাথা ব্যথার কারণ। তারা ঈর্ষান্বিত হয়ে মানিকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক নানা অপবাদ ছড়াতে থাকে। তারা সব জায়গায় বলে বেড়ায় মানিক নাকি আন্ডার পিএসসি। অথচ মানিকের তৈরি সংবাদ সাজানো শৈলীর কাছে তারা শিশুতুল্য।

যা হোক দুর্গা পূজার মহাউৎসবে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক অবুঝ তরুণ যুবকেরা আনন্দে মেতে উঠতে একটু-আধটু বাংলা মদ পান করে থাকে। সেই লক্ষ্যে বিজয়া দশমীর আগের দিন হিন্দু সম্প্রদায়ের আকাশ চন্দ্র হলদার ও তার স্বজাতি উত্তম কুমার হলদার মানিক হোসেনকে ভাড়ায় নিয়ে যায় চাটমোহরে।মানিকের পিছন সিটের শেষে স্কুল ব্যাগ পিঠে নিয়ে বসে উত্তম কুমার হলদার। চাটমোহর পৌঁছিলে ঐ দুই তরুণ মানিক কে কাজের কথা বলে একটি স্থানে কিছু সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে বলে। অতপর অল্প কিছুক্ষন পরে তারা ফিরে আসে।

এর আগে আকাশ চন্দ্র হলদারের সহপাঠি কথিত ভাঙ্গুড়ার ঐ জুটি সাংবাদিকের অনুজ মোবাইল ফোনে আকাশের কাছে জানতে পারে মদ পাওয়া গেছে এবং তারা সাংবাদিক মানিকের সাথে তার মটরসাইকেলে ফিরে আসবে। এ কথা জানার সঙ্গে সঙ্গে সে তার অগ্রজ অপর সংবাদকর্মীকে বিষয়টি জানায়। সেই অগ্রজ বিলম্ব না করে চাটমোহর থানায় ফোন দিয়ে পুলিশকে সব জানিয়ে মানিককে আটক করার জন্য অনুরোধ করে। চাটমোহরে তার বন্ধু প্রতীম জনৈক সংবাদকর্মীকেও বিষয়টি নজরদারির জন্য বলা হয়। তিনিও মানিককে ফাঁসানোর জন্য পুলিশের সঙ্গে ছুটে যান।

তখনও মানিক বুঝতে পারেনি ভাড়াটিয়া দুই যাত্রী তাদের ব্যাগে মদ বহন করছে এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বিছানো হয়েছে। ফেরার পথে পুর্বেই খবর পাওয়া চাটমোহর থানা পুলিশ জাদ্রিস মোড়ে মানিকের মটর সাইকেলের গতি রোধ করে। মানিক তখন পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করে। পুলিশ পিছনের সিটে বসা দুজনের ব্যাগ থেকে এক লিটারের কয়েকটি বাংলা মদের বোতল উদ্ধার করে। ফলে পুলিশ ঐ দু’জনের সাথে মানিককেও আটক করে।

অথচ চালক মানিকের কাছে কোনো ব্যাগই ছিল না । কারণ চালকের পিঠে ব্যাগ থাকলে পিছনে দু’জন যাত্রী বহন সম্ভবই নয়। তাই মদ রাখার প্রশ্নও ওঠেনা। এছাড়া আকাশ কুমার হলদার ও উত্তম কুমার হলদার ভগবানের নামে শপথ করে বলেছে মানিকসহ মটরসাইকেলটি তারা ভাড়ায় নিয়েছিল এবং মদের বিষয়টিও মানিক জানতো না। পুলিশ তারপরও মানিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত করে।

ঘটনার পর চাটমোহর থানায় আটক মানিক ও অপর আটক ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে এসব কথা জানা গেছে। এলাকায় এটাও গুঞ্জন উঠেছে পুর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মদ আনতে আকাশকে ব্যবহার করে মানিককে নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়া ঘটনা ঘটার পাঁচ মিনিটের মধ্যে কথিত জুটি সাংবাদিকের অগ্রজ ভাঙ্গুড়া থেকে ফেসবুকে মানিকের বিরুদ্ধে একটি স্ট্যাটাস দেয়। এদিকে এই ঘটনা আগে থেকে জেনে যাওয়া একজন ছাড়া চাটমোহরের অন্য সাংবাদিকেরা তখনও বিষয়টি জানতেন না।পরে তারা পুলিশের কাছ থেকে অবগত হন।

 

সেই থেকে মাসুদ রানা নামের সংবাদকর্মী ধারাবাহিক ভাবে নিজ আইডি আবার কখনো ফেক আইডি থেকে ফেস বুকে মানিকের বিরুদ্ধে সত্যমিথ্যা এক করে নানা রকমের মনগড়া মন্তব্য লিখে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। আক্রোশের বশবতী হয়ে প্রেসক্লাবকে জড়িয়েও নানা অশোভন মন্তব্য করছেন। অথচ যারা মুল খদ্দের হিসাবে চোলাই বা বাংলা মদ ক্রয় এবং বহন করছিল তাদের সম্পর্কে কোনো কটু মন্তব্য তো দুরের কথা প্রথমে তাদের ছবিও তিনি পোস্ট করেননি।

 

জানাগেছে, মাসুদ রানা লোকাল পত্রিকার সংবাদদাতা হিসেবে কিছুদিন ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবের সদস্য ছিলেন। তবে জামাতের পত্রিকা দৈনিক নয়াদিগন্তের সংবাদদাতাকে সভাপতি এবং মাসুদ রানা নিজে সেক্রেটারি হয়ে যখন আরেকটি প্রেসক্লাব গঠন করেন তখন ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাব থেকে তারা বাদ পড়েন। এ থেকে পাঠকের নিশ্চয়ই বুঝতে অসুবিধা হবে না কতটা উৎসাহী এবং আনন্দিত হয়ে একজন সংবাদকর্মী হয়ে আরেকজনের বিরুদ্ধে অনৈতিক ভাবে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন।

 

চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন জানান,ভাঙ্গুড়া থেকে কয়েকবার ফোন দিয়ে ওদের লোকেশন এবং মদ পরিবহনের বিষয়টি পুলিশকে জানায়। তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী চোলাই মদসহ দুজন এবং চালক মানিককে আটক করা হয়। এছাড়া সাংবাদিক মানিকের বিরুদ্ধে তারা অনেক অভিযোগ করে।

 

মানিক হোসেনের পিতা মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বলেন,আমার ছেলে সম্পূর্ণ নির্দোষ। সে সাংবাদিকতার পাশাপাশি মটরসাইকেল ভাড়ায় যাত্রী বহন ও বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির কাজ করে উপার্জন করে এবং আমাদের পিছনে ব্যয় করে। সে কোনো দিনও মদ ক্রয়-বিক্রয় বা সেবন কোনোটার সাথেই জড়িত নয়। আমি নিশ্চিত যে,আমার ছেলে ষড়যন্ত্রের শিকার এবং দুষ্ট চক্রের কু-পরিকল্পনা মাফিক তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

 

ভাঙ্গুড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ বাকি বিল্লাহ বলেন,মানিক হোসেন একজন পরিশ্রমী ছেলে এবং সক্রিয় গণমাধ্যম কর্মী। তাকে মাদকের সাথে জড়ানোর ফলে অনেকেই অবাক হয়েছে।

 

ভাঙ্গুড়া পৌরসভার মেয়র মোঃ গোলাম হাসনাইন রাসেল বলেন,একজন ভাল সংবাদকর্মী হিসাবে মানিক হোসেনকে মাদক মামলায় আটকের ঘটনাটি দুঃখজনক।

 

ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাসুদ রানা বলেন,মানিক একজন সাংবাদিক এটা জানি কিন্তু এলাকায় মাদকের সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতার খবর এর আগে কখনো শুনিনি।

 

ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বেলাল হোসেন খান বলেন,মানিক একজন ভদ্র ও বিনয়ী ছেলে। সে ভাল খবর প্রকাশ করে। সে জেনে শুনে মাদকের সাথে জড়িত হতে পারে না।