Goodman Travels

চলনবিল হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র

ডেস্ক রিপোর্ট: আজ বিশ্ব পর্যটন দিবস হলেও চলনবিল এলাকায় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে না উঠায় হতাশা আর ক্ষোভ বিরাজ করছে বিলপাড়ের বাসিন্দাদের । দক্ষিণ এশিয়া ও দেশের বৃহত্তম বিল চলনবিলকে ঘিরে বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সরকারি-বেসরকারিভাব বিনিয়োগের উদ্যোগ বা ব্যবস্থাপনার অভাবে এখানে পর্যটনশিল্প গড়ে উঠছে না।

দেশ-বিদেশে পরিচিত এই বিলকে পর্যটকদের জন্য মোটেল সুবিধাসহ কয়েকটি দর্শনীয় স্পটে অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই এটি দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনার সিংড়া, গুরুদাসপুর, তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, বনয়ারীনগর ফরিদপুর, চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রায় ১২ বর্গমাইলের বিলটি এখন ছোট হয়ে এসেছে। এখানে পর্যটকদের আকর্ষণ করার মতো প্রাকৃতিক দৃশ্য ও বহু  প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহাসিক স্থানও রয়েছে। তাড়াশ উপজেলার বিনসাড়ায় বেহুলা সুন্দরীর জিয়নকূপ ও পিতারবাছিয়া বানিয়া সওদাগরের বাড়ি, উপজেলা সদরে রায়বাহাদুরের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, নওগাঁয় তাপস শ্রেষ্ঠ ওলিয়ে কামেল শাহ শরিফ জিন্দানি (রহ.)-এর মাজার শরিফ, চাটমোহরের শীতলাইয়ের জমিদারবাড়ি, সদরের শাহি মসজিদ, গুরুদাসপুর উপজেলার চলনবিল জাদুঘর, সিংড়ার পেট্রোবাংলা, তিসিখালী মাজারসহ রয়েছে অনেক দর্শনীয় স্থান।

 

বর্ষায় প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগের জন্য অনেক পিকনিক পার্টির আয়োজন করা হয় এখানে। এ সময় দূরদূরান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা এলেও শুষ্ক মৌসুমে তেমন আসেন না। চলনবিলের বুকচিরে গড়ে ওঠা বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের গুমানী নদীর ওপর নির্মিত সেতুতে হাজারো দর্শনার্থী আসেন। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে হোটেল কিংবা মোটেল ও বিনোদন পার্ক গড়ে তুললে এখানে জমে উঠবে পর্যটন এলাকা।
চলনবিলের নাদোসৈয়দপুর গ্রামের কলেজ শিক্ষক আতিকুল ইসলাম বলেন, চলনবিলে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গবেষণারত শিক্ষক-গবেষকদের আসতে দেখলেও এর পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় কাউকে আসতে দেখলাম না। তিনি আক্ষেপের সঙ্গে জানান, সরকার ইচ্ছা করলেই এটিকে পর্যটন উপযোগী করে দেশের ঐতিহ্যবাহী সম্পদে রূপান্তর করতে পারে।

 

চলনবিল বাঁচাও আন্দোলন নামে একটি সামাজিক সংগঠনের সভাপতি ও তাড়াশ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার আবদুল জলিল জানান, আমরা চলনবিলকে রক্ষায় প্রবহমান ১০ থেকে ১২টি নদ-নদীর সংস্কার ও গতিপথ বন্ধ করে অবৈধ দখলকারীদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছি। পর্যটন করপোরেশনের আওতায় এনে পর্যটকদের প্রয়োজনীয় সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করছি। চলনবিলকে জেলা ঘোষণাসহ ১০ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছি।

 

পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অনার্স শেষ করা  চলনবিল হোক পর্যটনকেন্দ্র ফেসবুক গ্রপের  এডমিন  রুবেল হোসেন নামে এক যুবক জানান, আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করি এই চলনবিলে সৌন্দর্য  বিল পাড়ের  বাসিন্দা হিসেবে।  আমাদের কাছে মনে হয় না এটা দেশের বৃহত্তর বিল, কারণ এখানে প্রতিদিন হাজারো মানুষের চলাচল থাকলেও আজ পর্যন্ত কোন  পর্যটনকেন্দ গড়ে উঠেনি, এটা বড়ই পরিতাপের বিষয়। সুতরাং সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন চাটমোহর/নাটোর, তারাশ এলাকার চলনবিলে বাজেট বরাদ্ধ রেখে একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার আহবান।