Goodman Travels

সুজানগরে আবর্জনার দুর্গন্ধে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষদের দুর্ভোগ

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : সুজানগর পৌর শহরের সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে এবং মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পিছনে জলার ধারে স্থানীয় হোটেলগুলোর ফেলানো নোংরা ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে এ পথ দিয়ে চলাচলকারী মহিলা কলেজ ও আবুল কাশেম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষক সহ আশপাশের এলাকার মানুষদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুধু তাইনা ওই আস্তাকুঁড়ের কাছে পৌঁছানোর কয়েক গজ আগে থেকেই নাকে কাপড় দিতে চলাচল করতে হচ্ছে শিক্ষার্থী সহ চলাচলকারী অন্য মানুষদেরকে। সুজানগর মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী নিলা খাতুন বলেন ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধ সহ্য করে নাকে কাপড় দিয়ে তাদেরকে প্রতিদিন এ পথ দিয়ে কলেজে চলাচল করতে হচ্ছে ।

স্থানীয় এলাকার বিল্লাল হোসেন নামক এক ব্যক্তি জানান শুধু ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধই নয়, কমপ্লেক্সের নিচে ফাঁকা জায়গায় বসে গাঁজা এবং ফেনসিডিল সহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন করার পাশাপাশি দিনে রাতে প্রায় সবসময় আড্ডা চলে মাদকসেবীদের। সুজানগর পৌরসভার কঞ্জারভেন্সী ইন্সপেক্টর হাসান উদ্দিন জানান পৌরসভার গাড়ী গিয়ে রাস্তার সকল স্থান থেকে প্রতিদিন ময়লা আর্বজনা পরিস্কার করে থাকে,আর হোটেল ব্যবস্যায়ীদেরকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা আর্বজনা জমা রাখতে বলা হলেও তারা তা মানছেনা।সুজানগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ আলিম রিপন জানান শুধু হোটেল ব্যবস্যায়ীরাই নয় বাজারের অনেক ব্যবসায়ীই তার প্রতিষ্ঠানের ময়লা আবর্জনা কলেজের সামনে এনে প্রতিনিয়ত ফেলে যাচ্ছে।কোন ধরণের নিয়মনীতিই মানছেনা তারা।

সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ(ভারপ্রাপ্ত) ও সুজানগর প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান আলী জানান, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সহ আমাদের সার্বক্ষণিক এই ভাগাড়ে আর্বজনার দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে।সুজানগর থানা অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) হাদিউল ইসলাম জানান মাদকের সাথে জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

সুজানগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আবুল কাশেম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহীনুজ্জামান শাহীন জানান, তার বিদ্যালয়ের অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধ সহ্য এ পথ দিয়ে চলাচল করে থাকে,তাই সকলের অসুবিধার কথা চিন্তা করে পৌর কর্তৃপক্ষ অতিদ্রুতই এ স্থানটিতে ময়লা আবর্জনা ফেলানো বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।পৌর মেয়র আলহাজ আব্দুল ওহাব জানান,বিষয়টি ইতিমধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ সহ স্থানীয় এলাকাবাসী আমাদেরকে জানিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী সকল হোটেল মালিকদেরকে উক্ত স্থানে ময়লা আবর্জনা না ফেলানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজিৎ দেবনাথ জানান উক্ত স্থানে ময়লা আবর্জনা না ফেলানোর নির্দেশনা কেউ অমান্য করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।