Goodman Travels

১০ম ও ১১ তম গ্রেডের দাবিতে বেড়ায় প্রাথমিকের ‍শিক্ষকদের মানববন্ধন

মনির বেড়া:প্রধান শিক্ষকদের ১০ তম গ্রেড এবং সহকারি শিক্ষকদের ১১ তম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ৩ ঘটিকায় পাবনার বেড়া উপজেলা চত্বরে মানব বন্ধন করেছে উপজেলার প্রধান শিক্ষক সমিতি ও সহকারি শিক্ষকবৃন্দ। সভায় বক্তারা বলেন বর্তমান সরকার শিক্ষা বান্ধব সরকার। এ সরকার শিক্ষার উন্নয়নের জন্য কখনও কার্পন্য করেনি আর এখনও করবে না।শিক্ষা ক্ষেত্রে যতটুকু অর্জন তা এ সরকারের আমলেই হয়েছে। বক্তারা আরও বলেন- প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকদের মর্যাদাপূর্ণ গ্রেড প্রদানের ঘোষণা দেয়া হয়! এটিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সহকারী শিক্ষকদের বর্তমান ১৪তম গ্রেডের পরিবর্তে ১২তম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের পরিবর্তে দশম গ্রেডে উন্নীত করতে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে, কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে দেয়।তারা বলেন যেহেতু আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিবার্চনী ইসতেহারে প্রাথমিকের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূর করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে,সেহেতু অর্থ মন্ত্রণালয় আমাদের প্রস্তাব সরাসরি করতে পারেন না। উপজেলার শিক্ষক সমিতির সাধারন মহিউদ্দিন সোহেল বলেন, ‘শিক্ষক হচ্ছে দেশ গড়ার কারিগর। অথচ এই শিক্ষকদের বেতন নিয়েই সরকার গড়িমসি করছে। অবিলম্বে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন করার দাবি জানাচ্ছি। আমরা ক্লাস বর্জন করলে সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। যা আমরা চাই না। তাই সরকারের কাছে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি। প্রধান শিক্ষকদের নেতা ফারুক হোসেন বলেন, যে দেশে শিক্ষকদের বেতন গ্রেডের জন্য রাস্তায় দাঁড়াতে হয়, সে দেশে মান সম্মত শিক্ষা আসা করা যায় না। মানব বন্ধনে সহকারি শিক্ষকদের পক্ষে ১১ তম গ্রেডের দাবিতে বক্তব্য প্রদান করেন মনির।মানববন্ধন শেষে শিক্ষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জনাব আসিফ সিদ্দিকীর মাধ্যমে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বরাবর স্মারক লিপি পেশ করেন।মানববন্ধনে আরও বক্তব্য প্রদান করেন- বেড়া বি বি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন,বৃশালিখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিখন।মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ বি এম মাসুদ রানাসহ আরও বক্তব্য রাখেন- ওয়াদুদ,মনিরুল,প্রদীপ কুমার,লিলি,মহিউদ্দিন, নাজমুল প্রমূখ। প্রসঙ্গতঃসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা পেলেও তাঁরা বেতন পাচ্ছেন ১১তম গ্রেডে। অথচ একই পদমর্যাদার অন্য সরকারি কর্মকর্তারা বেতন পান ১০ম গ্রেডে। আর সহকারী শিক্ষকরাও দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকদের এক ধাপ নিচে বেতন গ্রেড নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে আওয়ামী লীগ তাদের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারেও শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য নিরসন করা হবে বলে অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তুআ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বেতন গ্রেড উন্নীতকরণের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠালে তাতে অসম্মতি জানানো হয়েছে। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।