Goodman Travels

বাকশাল থাকলে আগেই মর্যাদার আসনে থাকত দেশ : শেখ হাসিনা

<strong>নিউজ ডেস্ক: </strong> বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর বাকশাল কার্যকর থাকলে বাংলাদেশ অনেক আগেই বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে থাকতো। শনিবার গণভবনে শোকের মাস আগস্টের শেষ দিনে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ অনেকে বাকশাল-বাকশাল বলে গালি দেয়। আসলে বাকশালটা কী ছিল? এটা ছিলো কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ। এই বাংলাদেশ ছিল কৃষি প্রধান দেশ। কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খাদ্য উৎপাদন করে আর শ্রমিকের শ্রমের মধ্য দিয়ে এদেশের অর্থনীতি গড়ে ওঠে। এই কৃষক-শ্রমিককে এক করে সমগ্র বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করে অর্থনৈতিক মুক্তির ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে ১৯টা জেলা ছিল। এই ১৯টা জেলাকে ভাগ করে বঙ্গবন্ধু ৬০টি জেলায় রূপান্তর করেন। তার মানে প্রতিটি মহকুমা পর্যায়ক্রমে জেলায় রূপান্তর করা হয। এই মহাকুমাগুলোকে জেলায় রূপান্তর করা হয়, যেন সেগুলো অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে ওঠে এবং তৃণমূলের মানুষ সেটার সুফল পায়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ সম্পর্কে জানতে হলে তাকে নিয়ে লেখাপড়া করার জন্য ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই কারাগারের রোজনামচা বের করা হয়েছে। তার আদর্শ সম্পর্কে জানতে হলে তার লেখা বইগুলো পড়তে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর গোয়েন্দা নথির বই বের করেছি। আরও একটা নতুন খন্ড বের করার কাজ চলছে। আমি বিশটা বছর এই রিপোর্টগুলো নিয়ে কাজ করেছি। আমার সঙ্গে কাজ করেছে আমার বান্ধবী বেবী মওদুদ। কিন্তু দু:খের বিষয় বেবী মওদুদ আমাদের মাঝে আর নেই। ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই রিপোর্টগুলো তৈরি করা। এই রিপোর্টগুলো তার বিরুদ্ধে। এইগুলো পড়লেই বোঝা যাবে দেশের মানুষ, দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু কীভাবে কাজ করে গেছেন। এই রিপোর্টগুলো পড়লে তার সম্পর্কে অনেক তথ্য জানা যাবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো নেতার বিরুদ্ধে লেখা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। আমি যখন রিপোর্টটা সংগ্রহ করি প্রায় ৪০ হাজারের ওপরে পাতা। এর ভেতর যে তথ্যগুলো সেখান থেকে শেখ মুজিব সম্পর্কে জানা যাবে তিনি কীভাবে দেশের জন্য কাজ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরেকটি বই ছাপাতে দিয়েছি। ১৯৫২ সালে চীনে গিয়েছিলেন। সেখানে তখন একটা শান্তি সম্মেলন হয়েছিল। পুরো পাকিস্তান থেকে একটি প্রতিনিধি দল গিয়েছিল। সেখানে তিনি ভ্রমণ করে নিজের অভিজ্ঞতা লিখেছিলেন। কীভাবে তারা রেভুলেশন করেছে, সেখানকার মানুষের দুরবস্থা, তাদের জীবনযাত্রাকে গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। তাদের দেখেছেন, তাদের নিয়ে লিখেছেন।

ছাত্রলীগের ইতিহাস প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের প্রতিটি সংগ্রামে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা রয়েছে। প্রতিটি ইতিহাসে ছাত্রলীগের নাম রয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামে অনেক ছাত্রলীগ নেতা আত্মাহুতি দিয়েছেন। নীতি-আদর্শ না থাকলে নেতা হওয়া যায় না। হওয়া গেলেও তা সাময়িক। সেই নেতৃত্ব দেশকে কিছু দিতে পারে না। মানুষের ভালবাসা-আস্থা অর্জন করতে হবে। এটিই রাজনীতিকের জীবনের একমাত্র সম্পদ।

প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শোককে বুকে নিয়ে, ব্যথা-বেদনা বুকে চেপে রেখে নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করেছি আমরা। ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া রাখিনি। যে জাতির জন্য বাবা জীবন দিয়ে গেছেন, তাদের জন্য কতটুকু করতে পেরেছি, সেই বিবেচনা করেছি। যদি নিজেকে বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে গড়ে তুলতে হয় তাহলে তার মতো ত্যাগী কর্মী হিসেবে দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু যাদের ভালবাসতেন তাদের কল্যাণ করা সন্তান হিসেবে আমাদের দায়িত্ব। ৩২ নম্বরে যখন বাবাকে হত্যা করা হয়, খুনিরা মাকে বলেছিল, চলেন। তিনি একপাও নড়তে রাজি হননি, জীবন ভিক্ষা চাননি। বীরের মতো বুক পেতে দিয়েছিলেন বুলেটের সামনে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় সন্তান হিসেবে বাবার স্বপ্ন, লক্ষ্য আমি জানতাম। সেগুলো সামনে নিয়েই আমার পথচলার শুরু। স্বাধীনতার পর অনেকেই বলেছিল, এদেশের কোনও ভবিষ্যৎ নেই, ব্যর্থ রাষ্ট্র হবে। আমার জেদ ছিল বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়ে তুলবো যাতে বিশ্ববাসী বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে দেখে!

বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের অবদান বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার (বঙ্গবন্ধু) পাশে আমার মা সবসময় ছিলেন। প্রকাশ্যে রাজনীতিতে আসেননি, ছবি তোলেনি, নাম ছাপেননি। বাবার সঙ্গে থেকে প্রতিটা কাজে সহায়তা করেছেন। সাধ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়েছেন। বছরের পর বছর বাবা যখন কারাগারে, মা অপেক্ষা করেছেন। পাশে থেকে সহযোগিতাও করেছেন। এমনকী ছদ্মবেশে ছাত্রনেতাদের কাছে নির্দেশ পৌঁছে দিতেন, নির্দেশনাও দিতেন। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় গেরিলা। দিনরাত ২৪ ঘণ্টা গোয়েন্দা সংস্থার লোক থাকতো। তারা কোনোদিন ধরতে পারেনি আমার মা কোথায় কীভাবে যাচ্ছেন। প্রত্যেক আন্দোলন কীভাবে সফল করতে হয়, তা মায়ের কাছ থেকে শিখেছি।

ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনের সভাপতিত্বে সভাটি সঞ্চালনা করে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।