Goodman Travels

নির্মম সেই হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ (উত্তর ও দক্ষিণ) আয়োজিত আলোচনা সভায় ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্মৃতিকাতর হয়ে কেঁদেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

পরিবারের সদস্যদের হারানোর দিনটির নির্মমতার কথা তুলে ধরে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জীবনে সবচেয়ে কলঙ্কময় একটি দিন, ১৫ আগস্ট কালিমালিপ্ত একটি দিন।

এ সময় কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘৩২ নম্বরের ওই বাড়িতে কোনো জীবিত সদস্য ছিল না। সবাইকেই নির্মমভাবে হত্যা করেছে। আর রাসেলকে সবার শেষে, বাবা-মা সবার লাশের পাশে নিয়ে নির্মমভাবে তাকে হত্যা করেছিল।’

‘আমার ছোট্ট ভাইটি মাত্র ১০ বছরের। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। পরের দিন আমার মাসহ অন্যদের লাশ বনানী কবরস্থানে মাটি দেওয়া হয়। তাদের কোনো কাফন-দাফন ও জানাজা হতে দেওয়া হয়নি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড যে শুধুমাত্র একটা পরিবারকে হত্যা, তা নয়। এই হত্যার মধ্যে দিয়ে আমাদের দেশের ইতিহাস একেবারে মুছে ফেলে। এদেশের স্বাধীনতা, এদেশের ভাষা আন্দোলন, এদেশের প্রতিটি সংগ্রামে জাতির পিতার যে অবদান সেটা মুছে ফেলা হয়েছিল। তার নামটা পর্যন্ত নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কোথাও তার নামটা নেওয়া যেত না। ওই ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানো যেত না।’

‘‘কী দুর্ভাগ্য আমাদের, আমাদের দু’টি বোনের, মাত্র ১৫ দিন আগে আমরা বিদেশে চলে যাই। তখন তো ভাবতেও পারিনি, এই রকমভাবে এই বাংলাদেশের মানুষ- এমন একজন মানুষকে হত্যা করলো, যে তাদের পরিচয় দিয়ে গেল, একটা দেশ দিয়ে গেল। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তুলে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাচ্ছিল আর তাকেই হত্যা করেছে। যে জাতি ’৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিজয় অর্জন করে বিশ্বব্যাপী বিজয়ী জাতি হিসেবে সম্মান পেয়েছিল, সে জাতি খুনি জাতি হিসেবে মানুষের কাছে পরিচিত হলো।’’

বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে দেশে ফিরে আসতে বাঁধা দেওয়ার কথাও জানান জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা।

বক্তব্যে বারবার শেখ হাসিনাকে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে এবং চোখের জল মুছতে দেখা যায়। আবেগাপ্লুত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত অনেককে কাঁদতেও দেখা যায় ওই সময়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ এমপি, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এমপি, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, উত্তরের সহ-সভাপতি জাহানারা বেগম, দক্ষিণের সহ-সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি, উত্তরের যুগ্ম সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, দক্ষিণের যুগ্ম সম্পাদক কামাল চৌধুরী প্রমুখ।