Goodman Travels

ভাঙ্গুড়ায় বখাটের দৌরাত্ম্যে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় বখাটের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মেয়ে শিক্ষার্থীরা। এদের জ্বালায় স্কুল কলেজ বিমুখ হচ্ছে তারা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই বখাটেরা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মার্কেটের সামনে আড্ডা দেয়। কেউ কিছু বললে তারা মারমুখি ভঙ্গিতে তেড়ে আসে।

এলাকায় বিভিন্ন ধরনের নেশা ও অপকর্মের সাথেও এদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এদের বেশীর ভাগই এলাকার দিনমজুর ধরনের কিশোর যুবক। তবে কিছু অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে দেখা যায়, ভাঙ্গুড়া সরকারী হাজী জামাল উদ্দীন ডিগ্রি অনার্স কলেজের সামনে, কলেজপাড়া মোড়ের ফুটব্রিজে, মমতাজ মোস্তফা আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের সামনের মন্ডল মোড়, জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং ভাঙ্গুড়া মহিলা কলেজের ছাত্রীদের উত্যাক্তের জন্য বাস্ট্যান্ড এলাকা বেছে নিয়েছে এই বখাটেরা।

স্কুল কলেজ শুরু হওয়ার সময় দুপুরের টিফিন ও ছুটির সময় এরা সর্বোচ্চ সংখ্যায় উপস্থিত হয়। এ সময় তারা স্কুল কলেজের ছাত্রীদের বিভিন্ন ভাবে উত্যাক্ত করে। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, কু-রুচি পূর্ণ শব্দ ব্যবহার করে তারা। শুধু ছাত্রী নয় মার্কেটে আসা নারীদের রেহাই নেই এদরে হাত থেকে। সম্প্রতি এদের অত্যচারে অতিষ্ঠ হয়ে জরিনা রহিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকাল নয়টা থেকে দশটা পর্যন্ত স্কুলের আশেপাশে বিশেষ অভিযান চালু করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছূক এক দোকানদার বলেন, আমরা ব্যবসা করি তাই এরা দোকানে থাকলে কিছু বলতে পারি না। তবে আমার সামনে কেউ অশালীন আচরন করলে আমি ছাড় দেব না।

ভাঙ্গুড়া জরিনা রহমি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, আমি বখাটের হাত থেকে বাঁচাতে আমার মেয়েকে নিয়মতি স্কুলে নিয়ে আসি এবং নিয়ে যাই। যেদিন আমি আসতে পারি না সেদিন টেনশানের শেষ থাকে না। এই বখাটের থামানো না গেলে এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পরবে।

সরকারী ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রী বলেন, আমরা স্কুলে যাওয়ার সময় এই ছেলে গুলো খুবই বাজে ভাষা ব্যবহার করে আমাদের শুনিয়ে শুনিয়ে কথা বলে। আবার টিফিনের সময় দোকানে কিছু কিনতে গেলে তারা নিজেরা নিজেরা অশালীন আচরণ ও ভাষা ব্যবহার করে কথা বলে। শুধু তাই নয় এরা আমাদের ছেলে সহপাঠীদের সাথেও খারাপ আচরন করে। সেই জন্য দুপুরে না খেয়ে থাকলেও সাধারনত বাইরে যাই না।

এই বিষয়ে সরকারী ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম জানান, এই বিষয়ে আমি অবগত আছি। প্রতিনিয়ত আমি এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে আসছি। এই বখাটে গুলো আমার সামনেই যে ব্যবহার করে মেয়েদের সামনে কেমন করতে পারে ভাবতেই আমার ভয় হয়। আমি প্রসাশনের সাথে কথা বলেছি। খুব দ্রুতই এর সমাধান হবে বলে আশা করি।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আশরাফুজ্জামান বলেন, এই বিষয়ের কোন ছাড় দেয়া হবে না। আমি নিজে এই সব এলাকায় খোঁজ করব। তাদের বুঝিয়ে বলা হবে । প্রয়োজনে এদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে তাদের বোঝানো হবে। তাতেও কাজ না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।