Goodman Travels

বার বার কেন ক্ষুধা পাচ্ছে আপনার?

বার বার খাচ্ছেন, অনেক খাবার খাচ্ছেন- তারপরেও খাওয়ার ইচ্ছে একেবারেই কমছে না? ক্ষুধা মরছে না মোটেও? কেন এমন হচ্ছে? চলুন তো, জেনে নেওয়া যাক-


রিফাইন্ড কার্ব অনেক বেশি খাচ্ছেন-

আপনি কি পাস্তা, বেকারির খাবার বা চিনিজাতীয় খাবারগুলো বেশি খাচ্ছেন? সাধারণত এই পাস্তুরিত খাবারগুলোতে রিফাইন্ড কার্ব বেশি থাকে। এই ধরনের খাবারে আঁশ কম থাকায় শরীর খুব সহজেই হজম করে ফলে। ফলে খাবার পরপরই যে পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতি আসে সেটা খুব কম সময় স্থায়ী হয় এবং দ্রুত ক্ষুধা পেয়ে যায়।

আপনি যদি রিফাইন্ড কার্বের পরিবর্তে তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাস্থ্যকর খাবার, এই যেমন- শস্য, বাদামি চাল এবং সবজি খান সেক্ষেত্রে আপনার ক্ষুধাবোধের পরিমাণ একটু হলেও কমে আসবে।

ডায়াবেটিস-

ডায়াবেটিস, বিশেষ করে টাইপ ২ ডায়াবেটিস আপনাকে সবসময় ক্ষুধার অনুভূতি দিতে পারে। ডায়বেটিসের কারণে আমাদের শরীরের শক্তির অন্যতম বড় একটি উৎস গ্লুকোজ কোষে ছড়িয়ে যাওয়ার বদলে রক্তেই থেকে যায়।

ফলে, আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ক্ষুধার অনুভূতি বেড়ে যায়। ক্ষুধা বেড়ে যাওয়ার এই অনুভূতি তাই ডায়াবেটিসের একটি লক্ষণ হতে পারে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিকিৎসকের সাথে কথা বলতে পারেন। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এই সমস্যা দূর করা সহজ হবে।

অতিরিক্ত শরীরচর্চা করা-

অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভব করার পেছনে এটি বেশ বড় একটি কারণ। আপনি অবশ্যই অনেক বেশি শরীরচর্চা করলে এর ফলে আপনার শরীরের খাবারের চাহিদাও অনেক বেশি বেড়ে যাবে। এটি অবশ্য মোটেও খারাপ কোন ব্যাপার নয়।

বরং, গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, আপনি যদি শরীরচর্চার আগে সঠিক পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার খেয়ে নেন তাহলে পেশীর ক্ষয় ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা অনেক বেশি কমে যায়।

ওষুধ-

ওষুধের প্রভাবে এমনটা হতেই পারে। আপনি হয়তো কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে ওষুধ সেবন করছেন। তবে এই ওষুধের প্রভাবেই আপনার অতিরিক্ত ক্ষুধাবোধ হতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণত- করটিজল, ক্লোজাপিন এবং ওলানজ্যাপাইনের মতো ওষুধগুলো এই সমস্যা তৈরি করে বেশি।

যদি কোনো ওষুধ সেবনের কারণে আপনার অনেক বেশি ক্ষুধা পেতে শুরু করে এবং আপনার ওজন বেড়ে যায়, তাহলে চিকিৎসকের সাথে কথা বলে ওষুধ পাল্টে নিন বা যথাযথ ব্যবস্থা নিন।

প্রোটিন ও ফ্যাট না খাওয়া-

আপনার খাওয়ায় যদি যথেষ্ট পরিমাণ ফ্যাট বা প্রোটিন না থাকে সেক্ষেত্রে পেট খুব দ্রুত খালি হয়ে যেতে পারে। কারণ, ফ্যাট হজম হতে অনেকটা সময় নেয়। অন্যদিকে, প্রোটিন ক্ষুধাবোধ বাড়িয়ে দেয় এমন হরমোনের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। তাই, এই দুইটি উপাদান সঠিক পরিমাণে গ্রহণ না করলে ক্ষুধাবোধ বেড়ে যেতে পারে।

পানি পান না করা-

পানি আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান না করলে শরীরে নানারকম সমস্যা হতে পারে। কিডনি, মস্তিষ্ক, ত্বকসহ আমাদের শরীরের অন্যান্য অংশ পানির অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর পানি পরিমাণমতো না খাওয়ার অন্যতম একটি নেতিবাচক প্রভাব হলো ক্ষুধাবোধ বেড়ে যাওয়া।

গবেষণায় দেখা যায় যে, আপনি যদি খাবার আগে, মাঝে ও পরে পানি পান করেন তাহলে আপনি তুলনামূলকভাবে কম খাবার খেয়ে থাকেন। তাই, পানি পান না করার কারণেও এমনটা হতে পারে।

অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করা-

অ্যালকোহল আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষ করে, ক্ষুধাবোধ বাড়িয়ে তুলতে এর কোনো তুলনা নেই। অ্যালকোহল আমাদের শরীরে লেপ্টাইন নামক একটি উপাদানের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। এই উপাদান আমাদের ক্ষুধাবোধ কমিয়ে দিতে সাহায্য করে।

অ্যালকোহলের ফলে যেহেতু এই উপাদানের পরিমাণই কমে যায়, ফলে কিছু না বুঝেই মানুষ অনেক বেশি খেয়ে ফেলে এবং স্থূল হয়ে পড়ে।

প্রিমেন্সট্রুয়াল সিনড্রোম ও গর্ভধারণ-

নারীরা এই দুইটি ব্যাপার সবচাইতে বেশি অনুভব করে থাকে। প্রতি মাসে পিরিয়ড হওয়ার আগে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে অতিরিক্ত খাবার খেয়ে ফেলে তারা। ক্ষুধাবোধ বেড়ে যেতে পারে এ সময়। আবার গর্ভধারণের সময়েও এমনটা হতে পারে।

এছাড়াও অনেক বেশি মানসিক চাপ, ঘুম না হওয়া এবং দ্রুত খাবার খাওয়ার মতো কারণে ক্ষুধাবোধ বেড়ে যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে এ নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই।

তবে যদি আপনার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে এই অতিরিক্ত ক্ষুধাবোধ বাধা দেয় এবং স্থূল করে তোলে, সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলুন।

সূত্র- ব্রাইটসাইড।