Goodman Travels

সারাদেশে তোলপাড় : শহীদ মিনার ভেঙ্গে ম্যুরাল নির্মাণ বন্ধ

বার্তা সংস্থা পিপ : পাবনার সুজানরের সাতবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মীত শহীদ মিনার ভেঙ্গে পিতার মূরাল বানালের এমপি শীর্ষক সংবাদটি কয়েকটি গনমাধ্যমে প্রকাশের পর সারা দেশে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে কলেজ কর্তৃপক্ষ পাবনা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই ঘটনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হন কলেজ কর্তৃপক্ষ। অপরদিকে সংবাদ প্রকাশের পর এমপির পিতার মূরালের কাজ স্থগিত করে তাৎক্ষনিক ভাবে শহীদ মিনার নির্মানের জন্যে নির্দেশ দিয়েছেন পাবনা জেলা প্রশাসক। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাতবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোহম্মদ আব্দুল বাছেত বাচ্চু লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দেন।

লিখিত বক্তব্যে বলেন, তৎকালীন জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের কথা মতো সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ভাঙ্গা হয়েছে এবং কলেজের শহীদ মিনারটি বাজার সংলগ্ন রাস্তার পাশে অবস্থিত হওয়ায় ভ্রাম্যমান জনসাধারন শহীধ মিনারের গা ঘেষে মল মূত্র ত্যাগ ও আবর্জনা ফেলায় শহীধ মিনারটির প্রবিত্রতা নষ্ট হতো। তাই ভাঙ্গা হয়েছে।

এ সময় সাংবাদিকরা ময়লাও মলমূত্র ত্যাগের জায়গাতে কেন মরহুম তফিজ উদ্দিনের মতো আদর্শবান লোকের মূরাল তৈরী করছেন? তখন তারা কোন প্রকার সদুত্তর দিতে পারেন নাই। অপরদিকে ব্যাক্তি বিশেষের মূরাল কলেজ ক্যম্পাসে কেন এবং তারা স্থান ক্রয় সাপেক্ষে মূরাল তৈরী করছেন কিনা, সেটারও জবাব দিতে পারেন নাই। এক পর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের প্রশ্নের তোপে পরে সংবাদ সম্মেলন দ্রুত শেষ করেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,-সুজানগর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য সামছুল হক, আহম্মদ তফিজ উদ্দিনের পুত্র আহম্মেদ ফারুক কবীর বাবু, এ্যাড. আহসান হাবিব, কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে তারা উল্লেখ করেন যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিৎ দেবনাথের নির্দেশে শহীদ মিনারটি ভাঙ্গা হয়, তবে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি আরো জানান, কলেজের অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি সবই জানেন। আর এমপি স্যার যা বলবেন আমাকে তাই করতে হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ আমার উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরো বলেন, আমরা অর্থায়ণ করছি ঠিকই, তবে স্থান নির্ধারন, ডিজাইন থেকে শুরু করে সব কাজই তারা নিজেদের মতো করে করেছেন এমপি স্যারের নাম ব্যবহার করে। অথচ প্রথম দিনে সাংবাদিকদের তিনি অস্বীকার করেছেন যে এই বিষয়ে কিছুই জানেন না, এখন আবার আমাদের কথা বলছেন বিষয়টি সাংঘর্ষিক বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তবে তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও বর্তমান নারায়নগঞ্জের জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন মুঠোফোনে কয়েকটি বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, পাবনায় কর্মরত অবস্থায় আমার সাথে ওই কলেজ কর্তৃপক্ষের এই বিষয়টি নিয়ে আদৌ কোন দিন কথা হয়নি। যদি তারা এমনটি বলে থাকেন তাহলে মিথ্য বলেছেন বলেও দাবী করেন তিনি।

এদিকে সংবাদটি প্রকাশের পরপরই সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হলে পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্যর পিতার মূরাল তৈরীর কাজ বন্ধ করে আগে শহীদ মিনার তৈরীর নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ।

জেলা প্রশাসক বলেন, এখানে কলেজ কর্তৃপক্ষের দূরদর্শীতার অভাবেই এমনটি হয়েছে। তারা আরো সতর্ক হয়ে কাজটি করতে পারতেন। শহীদ মিনার থাকলে সেখানে জায়গাটি খারাপ আর মূরাল তৈরী করলে স্থানটি ভালো। যাইহোক আগে শহীদ মিনারটিকে গুরুত্ব দিতে হবে। ইতিমধ্যেই আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মূরাল তৈরীল কাজ বন্ধ ও আগে শহীদ মিনার স্থাপরে নির্দশ প্রদান করেছে।

এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিকদের প্রতি বিষেদগার করে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কলেজ চত্বরে সচেতন সমাজের ব্যানারে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা প্রকাশিত সংবাদটিকে এমপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে দাবী করেছেন।

– প্রসঙ্গত, গত রবিবার কয়েকটি গনমাধ্যমে প্রকাশের পর পাবনায় কলেজের শহীদ মিনার ভেঙ্গে পিতার ভাস্কর্য বানালেন এমপি শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।