Goodman Travels

লাইব্রেরিতে নিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণ : খুবি শিক্ষার্থীর মুখে কালি, জুতার মালা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) চারুকলা ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরিতে নিয়ে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের প্রিন্ট ম্যাক্যানিক ডিসিপ্লিনের ১৬তম ব্যাচের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র পাপ্পু কুমারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তার গলায় জুতার মালা এবং মুখে কালি মাখিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় ধর্ষক পাপ্পুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে ধর্ষিতা ছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী নির্যাতনবিরোধী কমিটি পাপ্পুর বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করেছে। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ধর্ষক পাপ্পু বঙ্গবন্ধু পাঠক ফোরামের খুবি শাখার সভাপতি। সে খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা।

সূত্র জানায়, গত ৩ জুলাই খুবির চারুকলা অনুষদে চিত্রকলা প্রদর্শনী ছিল। পাপ্পু প্রদর্শনী দেখানোর নাম করে তার ছাত্রী ওই মেয়েকে চারুকলায় আসতে বলে। মেয়েটি চারুকলায় যাওয়ার পর তাকে ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে চারুকলার লাইব্রেরিতে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর পাপ্পু নিজের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘটনার পর মেয়েটি লাইব্রেরির সিঁড়িতে কান্নাকাটি করার সময় রাত আড়াইটার দিকে দারোয়ান তাকে দেখতে পান। তখন ঘটনাটি প্রকাশ পায়।

পরে ধর্ষিতার পরিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক বরাবর পাপ্পুর শাস্তি দাবি করে লিখিত অভিযোগ করেন। তবে পাপ্পু ছাত্রলীগের প্রভাব খাটিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।

এদিকে ঘটনার পর গত ১৫ জুলাই পাপ্পু বিশ্ববিদ্যালয়ে গেলে ছাত্ররা তার মুখে কালি লাগিয়ে ও গলায় জুতার মালা ঝুলিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। এরপর থেকে তাকে আর ক্যাম্পাসে দেখা যায়নি।

চারুকলা বিভাগের প্রিন্ট ম্যাক্যানিক ডিসিপ্লিনের ডিন ড. নিহার রঞ্জন সিংহ জানান, ধর্ষণে অভিযুক্ত পাপ্পু কুমারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

খুবির ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মোঃ শরীফ হাসান লিমন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী নির্যাতনবিরোধী কমিটি ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন করেছে। ঈদের আগেই তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।