Goodman Travels

পাবনায় স্ত্রীর প্রেমিককে কুকুর-বিড়ালের মতো পেটালেন স্বামী

পাবনার ঈশ্বরদীতে স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার জেরে সেতু ইসলাম (২৮) নামে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে বেধড়ক পিটুনি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্বামী রতন আলী।কিন্তু সেতু ইসলামের মা বলছেন তার ছেলেকে মেরে ফেলানোর জন্যই এমনটা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় রবিবার (২১ জুলাই) রাতে রতনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন সেতুর মা।

প্রেমিক সেতু ইসলাম ওই এলাকার মৃত আব্দুল গফুর প্রামাণিকের ছেলে। সেতুর মা তার মা শাহিদা বেগমের দাবি এভাবে হত্যা করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

পুলিশ এবং স্থানীয়রা জানান, ঢুলটি এলাকার রতন আলীর স্ত্রীর সঙ্গে সেতু ইসলামের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। সম্প্রতি রতন ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে সেতুকে পরকীয়া বন্ধের জন্য নিষেধ করা হয়। কিন্তু সেতু তাদের নিষেধ উপেক্ষা করে রতনের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে। এতে রতন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং সম্প্রতি তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

সেতুর পরিবার ও মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ আরও জানায়, শনিবার (২০ জুলাই) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ঈশ্বরদী-পাবনা সড়কের মল্লিক অ্যাগ্রোফুডের সামনে থেকে রতন তার কয়েকজন সহযোগীকে সাথে নিয়ে সেতুকে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে রতন ও তার সহযোগীরা একটি ধান চাতালের গুদামে নিয়ে সেতুর হাত-পা বেঁধে বস্তায় ভরে পেটাতে থাকে।

এ সময় তার আর্তচিৎকার শুনে পথচারীরা চাতালের ভেতরে গেলে রতন এবং তার সহযোগীরা পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ আহতাবস্থায় পরকীয়া প্রেমে অভিযুক্ত সেতুকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে।

সেতুর মা শাহিদা বেগম সাংবাদিকদের কাছে জানান, তার ছেলেকে হত্যার জন্য মধ্যযুগীয় বর্বরতায় বস্তায় ভরে কুকুর- বিড়ালের মতো মারা হয়েছে। স্থানীয়রা টের না পেলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হতো। তিনি নির্যাতনকারী রতন ও তার সহযোগীদের বিচার দাবি করেন।

ঈশ্বরদী থানার পুলিশের উপপরিদর্শক মোহাম্মাদ আলী ডেইলি পাবনাকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতাবস্থায় সেতুকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকে রতন পলাতক। তার বাবা বৃদ্ধ হওয়ায় তাকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা হয়নি। এটি একটি পরকীয়াজনিত ঘটনা বলে তিনি জানান।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ বাহাউদ্দিন ফারুকী ডেইলি পাবনাকে জানান, সেতুর মা শাহিদা বেগম থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। সুস্থ হলেই তার কাছ থেকে সব শুনে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।