Goodman Travels

২৫ বছর পর মামলার রায় কাল

নিউজ ডেস্ক: ২৫ বছর আগে পাবনার ইশ্বরদীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (সেই সময় বিরোধীদলীয় নেত্রী) ট্রেনবহরে হামলা মামলার রায় আগামীকাল বুধবার। সোমবার পাবনার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩ এর আদালতে যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক রুস্তম আলী রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন।

এ সময় মামলার ৫২ আসামির মধ্যে ৩০ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিরা সবাই ঈশ্বরদী উপজেলা, পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট গোলাম হাসনায়েন ও পিপি আক্তারুজ্জামান মুক্তা। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার সরকার ও অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার।

পিপি আক্তারুজ্জামান মুক্তা জানান, সাক্ষীদের ভাষ্যমতে আসামিদের অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদ খন্দকার বলেন, এ মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা সুনির্দিষ্টভাবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেননি।

কাজেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হলে সব আসামি বেকসুর খালাস পাবেন। জানা গেছে, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দলীয় কর্মসূচিতে ট্রেনবহর নিয়ে খুলনা থেকে সৈয়দপুর যাচ্ছিলেন। পথে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে তাকে বহনকারী ট্রেনবহর যাত্রাবিরতি করলে ওই ট্রেন ও শেখ হাসিনার কামরা লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় দলীয় কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করে শেখ হাসিনা দ্রুত ঈশ্বরদী ত্যাগ করেন।

পরে রেলওয়ে পুলিশ বাদী হয়ে তৎকালীন ছাত্রদল নেতা ও বর্তমানে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ ৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর মামলাটি পুনঃতদন্ত করে পুলিশ। তদন্ত শেষে নতুনভাবে বিএনপি নেতাকর্মীসহ ৫২ জনকে এ মামলার আসামি করা হয়। মামলাটি দায়ের করার সময় মামলায় পুলিশ কোনো সাক্ষী না পেয়ে আদালতে চূড়ান্ত রিপোর্টও দাখিল করে। কিন্তু আদালত সে রিপোর্ট গ্রহণ না করে অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি সিআইডিতে পাঠান। পরে সিআইডি তদন্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।