Goodman Travels

মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার চাটমোহরে মাদরাসাছাত্রী আমেনা খাতুন ওরফে মায়মুনাকে (১১) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে পাবনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মায়মুনা হত্যার বিচার দাবি করেন তার অসহায় বাবা-মা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, চাটমোহর উপজেলার ঝবঝবিয়া গ্রামের ময়েজ উদ্দিন মোল্লার মেয়ে শরৎগঞ্জ রইজ উদ্দিন দাখিল মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী আমেনা খাতুন ওরফে মায়মুনা (১১)। সে র্দীঘদিন ধরে একই এলাকার শাহাদত হোসেনের স্ত্রী জহুরা খাতুনের কাছে আরবি পড়তো। প্রতিদিনের মতো ২০১৮ সালের ৬ জুন সকালে আমেনা খাতুন আরবি পড়তে যায় জহুরা খাতুনের কাছে। এ সময় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে জহুরা খাতুনের স্বামী শাহাদত হোসেন আমেনা খাতুনকে ধর্ষণ করে এবং এ কথা কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।

পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা মীমাংসার আশ্বাস দেয়। কিন্তু পরদিন দুপুরে আমেনা খাতুন ওরফে মায়মুনা বাড়িতে একা থাকার সুযোগে শাহাদত সেখানে গিয়ে আবারও তাকে ধর্ষণ করে। বিকেলে বাড়ি ফিরে আমেনা খাতুনকে ঘরের আড়ার সঙ্গে মৃত অবস্থায় ঝুলন্ত দেখতে পান তার মা তারা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত আমেনা খাতুনের বাবা-মা দাবি করেন, তাদের মেয়েকে শাহাদত গলায় উড়না পেঁচিয়ে হত্যার পর মরদেহ ঘরের বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের মা তারা খাতুন বাদী হয়ে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের কারণে সম্ভ্রমহানির প্রত্যক্ষ কারণে আত্মহত্যার প্ররোচিত করার অপরাধে শাহাদত হোসেনকে (৩৫) একমাত্র আসামি করে চাটমোহর থানায় মামলা করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি।

আত্মহত্যার প্ররোচিত করার অপরাধে মামলা দায়ের করে এখন কেন মেয়েকে হত্যার পর মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে নিহতের বাবা ময়েজ উদ্দিন বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী অশিক্ষিত লেখাপড়া জানি না। স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলজার হোসেন থানায় নিয়ে গিয়ে কাগজে লিখে স্বাক্ষর করতে বললে আমার স্ত্রী তারা খাতুন ওই কাগজে স্বাক্ষর করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত মাদরাসাছাত্রী আমেনা খাতুন ওরফে মায়মুনার বাবা-মা ও স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে চাটমোহর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শরীফুল ইসলাম জানান, মামলার পর তদন্ত করে আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা পেলে পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করবে।