Goodman Travels

উল্লাপাড়ায় ঘরে ঢুকে মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ঘরে ঢুকে মা ও ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার রাতে দুর্গানগর ইউনিয়নের মহেশপুরে নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আলতাফ হোসেন মকুল ও তার মা রিজিয়া খাতুন। পুলিশ জানায়, আলতাফ তার মাকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন।

তিন দিন আগে আলতাফের স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান। ধারণা করা হচ্ছে, বুধবার রাত ১০টার দিকে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে দু’জনকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

তাদের লাশ খাবার টেবিলের পাশে পড়ে থাকায় আরও ধারণা করা হচ্ছে ঘটনার সময় মা ও ছেলে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন।

সকালে প্রতিবেশীরা ঘরের দরজা খোলা দেখে ভেতরে ঢুকে দু’জনের লাশ দেখতে পায়। পরে পুলিশকে খবর দিলে উল্লাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

এ ব্যাপারে আলতাফের মেয়ে উল্লাপাড়া এইচটি ইমাম স্কুলের শিক্ষক রোকসানা হোসেন হিজল যুগান্তরকে বলেন, গ্রামের একটি মসজিদ নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।

গ্রামের কিছু অসামাজিক মানুষ যাতে ওই মসজিদে ঢুকতে না পারে তার জন্য তার বাবার কিছু গ্রামবাসীর সঙ্গে কয়েক দফা বাকবিতণ্ডা হয়। সেই সূত্র ধরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ হিজলের।

এ হত্যার ব্যাপারে আলতাফের প্রতিবেশীরা কেউ মুখ খুলছে না। সরেজমিন ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, আশপাশের গ্রাম থেকে অসংখ্য নারী-পুরুষ ওই বাড়িতে ভিড় করেছে।

উল্লাপাড়া মডেল থানার ওসি দেওয়ান কউসিক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, মহেশপুর গ্রামে জোড়া খুনের পেছনের কারণ মসজিদ ও করতোয়া নদীর একটি বালুমহালকে ঘিরে সৃষ্ট কোন্দল হতে পারে। এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের কিছু ক্লু পুলিশ পেয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রশাসন থেকে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, দু-চারদিনের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।