Goodman Travels

বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা সাত কোটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধ, নির্যাতন আর সংঘাতের কারণে ২০১৮ সালে ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে বিশ্বের দুই কোটি মানুষ। এতে বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত কোটির বেশি। যা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

বিশ্ব শরণার্থী দিবস আজ। আর এ দিবসকে সামনে রেখে জাতিসংঘে শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার বুধবার প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন তথ্য।

এদিকে বর্তমানে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ শরণার্থী শিবির বাংলাদেশের কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের মাঝে এ দিবস নিয়ে কোনো ধারণা নেই। তারপরও জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত এসব রোহিঙ্গাদের দাবি, নাগরিক হিসেবে মর্যাদা দিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা। এ প্রত্যাশার বাস্তবায়ন বাংলাদেশ সরকারের কাছে কামনা করছেন তারা।

বাস্তুচ্যুত মানুষের হিসাবে শরণার্থী, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী ও দেশের অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতদের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

বুধবার জেনেভায় এক অনুষ্ঠানে ‘বৈশ্বিক প্রবণতা’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সংস্থার প্রধান ফিলিপো গ্র্যান্ডি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বৈশ্বিক প্রবণতা ভুল দিকেই যাচ্ছে। নতুন করে যুদ্ধ আর সংঘাত বাড়ছে এবং তৈরি করছে নতুন নতুন শরণার্থী। যারা আগের শরণার্থীদের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, অথচ পূর্ববর্তীদের সমস্যার কোনো কিনারা হয়নি।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, ২০১৮ সাল নাগাদ ৭ কোটি ৮ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৮৫ লাখ। এক দশকে বাস্তুচ্যুত মানুষ বৃদ্ধির পরিমাণ ৬৫ শতাংশ। ২০০৯ সালে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৩৩ লাখ।

প্রতিবেদনের বলা হয়, মানুষের বাস্তুচ্যুতির সংখ্যা ও সময় দুটোই বাড়ছে। প্রতি পাঁচজনে চারজনের বাড়িছাড়া থাকার সময় দাঁড়িয়েছে পাঁচ বছরের বেশি।

ইউএনএইচসিআরের প্রতিবেদনে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশসহ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশের প্রশংসা করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নয়নশীল অঞ্চল তুলনামূলকভাবে বেশি শরণার্থীর ভার বহন করছে। বাংলাদেশ, শাদ, কঙ্গো, ইথিওপিয়া, রুয়ান্ডা, সাউথ সুদান, সুদান, তানজানিয়া, উগান্ডা ও ইয়েমেনের মতো কম উন্নত দেশ মোট ৬০ লাখ ৭০ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। যা মোট সংখ্যার শতকরা ৩৩ ভাগ।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের অনেকে জানিয়েছেন, নিপীড়নের শিকার হয়ে বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে শরণার্থী হয়েছি। জীবনধারণের উপকরণসহ সবদিক দিয়ে সুখে থাকলেও মনটা পড়ে আছে রাখাইনে। মাথা উঁচু করে থাকার সুযোগ নিয়ে ফিরে যেতে চাই।

তারা বলেন, আশ্রয়দাতা বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন দাতা সংস্থার সহযোগিতা নিয়ে মিয়ানমারকে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখলে আমাদের ফেরত যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

রোহিঙ্গাদের দাবি শুধু প্রতিবছর শরণার্থী দিবস পালনে তারা অংশীদার হতে চান না। নিজ দেশে ফিরে বাংলাদেশের বোঝা হালকা করতে চান তারা।

কক্সবাজার শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার আবুল কালাম বলেন, বিশ্ব শরণার্থী দিবস আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। কারণ আমাদের দেশে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। এটি আমাদের দেশের জন্য একটি বিশাল বোঝা। আমরা বিভিন্ন কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারছি না। আমরা চাই, বিশ্ববাপী শরণার্থী সমস্যার সমাধান হোক।