Goodman Travels

পাবিপ্রবি’র নোটিশে আবারো ভুল..! শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণ শাখার জারীকৃত নোটিশে আবারো ভুল হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও লজ্জা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। ইতিপূর্বে ভর্তি ফরমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাষ্ট হেডে বানান ভুল হলে সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই সময়ে প্রশাসনসহ শিক্ষার্থীরা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়লেও সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। নোটিশটি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানোর পর বিষয়টি সবাই অবগত হলে টক অব দ্যা ক্যম্পাসে পরিনত হয়। অনেকেরই হাস্যরসেরও খোরাক হয়। অপরদিকে রাতে পুষ্পার্ঘ অর্পনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে ব্যবসায় অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ড. হাসিবুর রহমান নোটিশে বানান ভুলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, মূলত অসচেতনতার জন্যেই এমনটি হয়েছে। তবে যারাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে আমরা কাজ করি অনেক সজাগ থাকা দরকার।

অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইয়াহিয়া ব্যাপারী আকাশ বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নোটিশে বানান ভুলের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেই লজ্জা পাচ্ছি। যদি কোন কর্মকর্তা এমনটি করতেন লজ্জা একটু কম হতো। যেহেতু পরিবহন প্রশাসক একজন শিক্ষক, তিনি কি করে ওই নোটিশে স্বাক্ষর করলেন, আমার বোধগম্য নয়।

একাধিক শিক্ষার্থীরা জানান, নোটিশ এ চোখ বুলিয়ে আমরা হতভম্ব হয়ে গেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তা ব্যক্তিরা যেখানে সাধারন বানানই জানেন না, তারা কীভাবে এতো বড় বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেন? আর আমাদের কি শেখাবেন। যে শিক্ষকের এমন ধরনের ভুল হতে পারে সেখানে ওইসব শিক্ষকের পড়াশুনার মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

শিক্ষার্থীরা আরো জানান, এক পৃষ্ঠার একটি সাধারন নোটিশে যাদের আন্তর্জাতিক বানানই ভুল হয়, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ চৌধূরী আসিফ বলেন, ভুল তো মানুষের হতেই পারে। তবে এই ধরনের ভুল সত্যিই লজ্জার। অপরদিকে ওই নোটিশে রাত এগারটা থেকে সাড়ে বারটা পর্যন্ত ছাত্রীদের ডাকা হয়েছে সেখানে ছাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিভাবে দখবেন আমার জানা নেই বলেও জানান এই নেতা।

এ বিষয়ে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভিসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দক্ষ লোকের অভাবের জন্যেই বার বার এমনটি হচ্ছে, সত্যিই কিছু বলার নেই। আমি নিজেও লজ্জিত। অপরদিকে রাতে পুষ্পার্ঘ অর্পনের সময় ছাত্রীদের রাখা নিয়ে তিনি কৌশলে এড়িয়ে গিয়ে বলেন, সিদ্ধান্তটা নেওয়া ঠিক হয়নি, তারপরও ভাইস চ্যান্সেলর স্যার ও ছাত্র উপদেষ্টা ভালো বলতে পারবেন। এদিকে ভাইস চ্যান্সেলর ও ছাত্র উপদেষ্টার সাথে যোগাযোগ করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।