Goodman Travels

পাবনার বিলে রাতের অন্ধকারে চলছে অতিথি পাখি শিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাবনার সাঁথিয়া পাখি পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও পাবনার সাঁথিয়ায় গাজারিয়া বিলসহ বিভিন্ন বিলে রাতের আধারে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে অতিথি পাখী। শীতের আগমনে এসব এলাকায় বিভিন্ন বিলে অতিথিী পাখির আনাগোনা বেড়ে যায়। আর এ সুযোগেএক ধরনের উৎসুক মানুষেরা নির্বিচারে হত্যা করছে এসব পাখিকে।

সরেজমিন উপজেলার করমজা ইউনিনের আফড়া গ্রমের গজারিয়া বিল ঘুরে দেখা যায় অতিথি পাখির আানাগুনা। মধ্যবিত্ত থেকে উচ্চবিত্তের রসনা বিলাসের জন্য পাখি শিকারীরা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী এসব পাখি রাতের আধারে মাছ মারা টেটা দিয়ে এসব পাখি হত্য করছে আর দিনের বেলায় এয়ারগানের পাশাপাশি যাঁতিকল, বিষটোপ, ঘুমের ওষুধ, দিয়ে কৌশলে পাখি শিকার করছে। উপজেলার শামুকজানি গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিকারির সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি শখের বসে বন্ধুদের সাথে নিয়ে রাতে পাখি মারতে গিয়েছিলাম ৫০-৬০টি পাখি পেয়েছি । সে জানান বিলের মধ্যে ধান ক্ষেতে থাকা এসব পাখি টর্চ ও মাছ মারা টেটা দিয়ে মেরেছি । শুধু আমি না অনেকেই এভাবে পাখি মারছে ।

জানাগেছে,এখানে প্রতি বছর উত্তরের শীত প্রধান আঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে আসে নানা প্রজাতির পাখি। যেগুলো ‘অতিথি পাখি’ নামে পরিচিত। আবহাওয়া পরিবর্তন, খাদ্যের সন্ধান ও প্রজননসহ নানা কারণে তারা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগমনঘটে এদের। এখানে গিরিয়া হাঁস, ভূতি হাঁস ,বক, ডাহুক, ডুবুড়ি, পানকৌড়িসহ অন্যান্য জলচর পাখি এখন ভিড় জমাচ্ছে গজারিয়া বিল ছাড়াও সকল জলাশয়ে। এ পাখিদের সঙ্গে মিলেমিশে এক হয়ে গেছে স্থায়ীভাবে বাস করা অন্যান্য পাখিগুলো। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এলাকার গজারিয়া বিল, কাটিয়াদহ বিল,মুক্তরের বিল,সেনাই বিল,বড় বিল,ছোট বিল,গাঙ ভাঙ্গার বিল,টেংড়াগাড়ীর বিল এবং পার্শ্ববর্তী গাজনার বিলেও চলছে অবাধে পাখি হত্যা।

জানাগেছে, শিকারিদের পাশাপাশি এলাকার সচেতন বিত্তশালী পরিবারগুলো এয়ারগান নিয়ে হাতের নিশানা পরীক্ষা করতে আশপাশের বিল থেকে অবাধে হত্যা করছে এসব পাখি।

রাজশাহী পরিবেশ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, একজন শিক্ষিত মানুষ শখের বসেই হত্যা করুক আর একজন অশিক্ষিত মানুষ অসচেতনতা বশতঃ পাখি হত্যা করুক না কেন পাখি হত্যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী যদি কোনো ব্যক্তি পাখি হত্যা করেন তাহলে তার সর্বোচ্চ ১ বছরের কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এমনকি একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন। এছাড়া পরিযায়ী পাখির দেহের কোনো অংশ সংগ্রহ, কেনাবেচা কিংবা পরিবহন করলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ত্রিশ হাজার টাকা অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন এবং একই অপরাধ দ্বিতীয়বার করলে সর্বোচ্চ ১ বছর কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। তিনি বলেন, যারা পাখি হত্যা করে তারা বিকৃত মনের মানুষ। পাখি আমাদের পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহিত কথা বলবো। জনসচেনতার অভাব ও আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় এসব পাখি নির্বিচারে হত্যা হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা।