Goodman Travels

পাবনা সদর সাব-রেজিষ্টারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : ২ কোটি ৩৮ লক্ষ ১৪ হাজার ৯২৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করায় পাবনা সদর সাব-রেজিস্ট্রার মো: ইব্রাহীম আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার সকালে দুদক পাবনা অফিসের সহকারী পরিচালক গোলাম মাওলা বাদী হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দারুস সালাম থানায় এই মামলা করেন। মামলা নং ২২, তারিখ ১৫.১০.২০১৮ ইং।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের মৃত ইরাদ আলীর ছেলে মোঃ ইব্রাহীম আলী (৫৮)। পাবনা সদরের সদর সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে-৯/৪, টোলারবাগ (২য় তলা), মিরপুর, ঢাকার বিরুদ্ধে দুদক পাবনা অফিস অনুসন্ধান সম্পন্ন করে। অনুসন্ধানকালে তার মোট অর্জিত ৩ কোটি ১২ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫০২টাকার সম্পদের মধ্যে ২ কোটি ৩৮ লক্ষ ১৪ হাজার ৯২৫টাকার সম্পদ অবৈধ অর্জনের প্রমাণ পায় দুদক। যার পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায় মো: ইব্রাহিম আলীর বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানা, ডিএমপি, ঢাকায় মামলা রুজু করা হয়।
সুত্র জানায়, মোঃ ইব্রাহিম আলী ২০০৯ সালে সাব-রেজিস্ট্রার পদে চাকুরীতে যোগদান করেন। তিনি নিজ নামে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, মিরপুর, ঢাকায় রেজিস্ট্রিকৃত দলিল নং ২৬১১ তারিখ: ১০/৩/২০১৩ খ্রিঃ মোতাবেক ৯/৪, টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকায় ৯০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ক্রয় ৪০,০০,০০০/- টাকা; পাবনা জেলার ঈশ^রদী উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে পৈতৃক জমিতে ১৭০৯ বর্গফুট আয়তনের দোতলা বাড়ী নির্মাণে বিনিয়োগ ৬৩,৪৩,০০০/-টাকা; সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, ঈশ^রদী, পাবনায় রেজিস্ট্রীকৃত দলিল নং ৬৬০ তারিখ: ০২/০২/২০১৬ খ্রিঃ মোতাবেক রামচন্দ্রপুর মৌজায় ০.০৮০০ একর জমি ক্রয় ১,৫০,০০০/-টাকা; দলিল নং ১৪৬৯ তারিখ: ০৯/৩/২০১৬ খ্রিঃ মোতাবেক বহরপুর মৌজায় ০.০৩০০ একর জমি ক্রয় ২,৫০,০০০/-টাকা; সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, কেরাণীগঞ্জ, ঢাকায় রেজিস্ট্রীকৃত দলিল নং ৫০৮৫ তারিখ: ৩০/৪/২০১৭ খ্রিঃ মোতাবেক শিয়ালী মৌজায় ৮ শতাংশ জমি ক্রয় ৫,৪১,০০০/-টাকা; সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, ঈশ^রদী, পাবনায় রেজিস্ট্রীকৃত দলিল নং ৪২২১ তারিখ: ০৩/৮/২০১৭ খ্রিঃ মোতাবেক রামচন্দ্রপুর মৌজায় ০.০৮১০ একর জমি ক্রয় ২,৬০,০০০/-টাকাসহ মোট ১,২১,৪৪,০০০/-টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। তিনি গাড়ী নং ঢাকা মেট্রো ঘ-১১-৯৮৫৮ ক্রয় ৫,০০,০০০/-টাকা; ব্যাংক এশিয়া লিঃ, ঈশ^রদী শাখা, পাবনায় স্থায়ী আমানত হিসাব নং ০৪০৫৫০০২২৩৬ তে ২১/৫/২০১৮ খ্রিঃ তারিখে স্থিতি ৫,৮৪,৮৭৮/-টাকা; ন্যাশনাল ব্যাংক লিঃ, কাওরান বাজার শাখা, ঢাকায় সঞ্চয়ী হিসাব নং ০০৪৮-৩৪০৬৮৪২৮ তে ২৩/৬/২০১৮ খ্রিঃ তারিখে স্থিতি ১২,৪২১/-টাকা; অগ্রণী ব্যাংক লিঃ, দাশুড়িয়া শাখা, পাবনায় সঞ্চয়ী হিসাব নং ০২০০০০৭৪৩৫৫৯০ তে ৩০/৬/২০১৮ খ্রিঃ তারিখে স্থিতি ১১,৮৯,৭৬২/- টাকা; ব্যাংক এশিয়া লিঃ, ঈশ^রদী শাখা, পাবনায় সঞ্চয়ী হিসাব নং ০৪০৩৪০০৪৯৮২ তে ৩০/৬/২০১৮ খ্রিঃ তারিখে স্থিতি ১,৩৫,৩০১/- টাকা; সোনালী ব্যাংক লিঃ, পাবনা শাখা, পাবনায় সঞ্চয়ী হিসাব নং ৪১১৪৫৩৪১৯৪০৪৩ তে ১৫/৭/২০১৮ খ্রিঃ তারিখে স্থিতি ৭,৩৪,৬১৭/- টাকাসহ মোট ৩১,৫৬,৯৭৯/- টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। এভাবে তিনি মোট (১,২১,৪৪,০০০ + ৩১,৫৬,৯৭৯)=১,৫৩,০০,৯৭৯/-টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। উক্ত সম্পদ অর্জনকালে তিনি ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন লিঃ হতে ১৫,০০,০০০/-টাকা ও ব্যাংক এশিয়া লিঃ হতে ২৫,০০,০০০/- টাকাসহ মোট ৪০,০০,০০০/-টাকা ঋণ গ্রহণ করেন; যার মধ্যে বর্তমানে ১১,৩২২/-টাকা অপরিশোধিত আছে। অপরিশোধিত ঋণ বাদে তার নীট সম্পদ (১,৫৩,০০,৯৭৯ – ১১,৩২২)=১,৫২,৮৯,৬৫৭/-টাকা। উক্ত ১,৫২,৮৯,৬৫৭/-টাকার সম্পদ অর্জনের বিপরীতে তিনি বেতনভাতা, গৃহ সম্পত্তির আয়, কৃষি আয়, পুকুর লীজের আয়, ফরেন রেমিটেন্স, আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ এর ১৯ বিবিবিবিবি ধারায় ঘোষিত আয়, মৎস্য চাষের আয় ও করমুক্ত আয়সহ মোট ৮৪,৪৩,৮৯৫/-টাকা আয় করেন। মোট আয় ৮৪,৪৩,৮৯৫/- টাকা হতে তিনি পারিবারিক খাতে ব্যয় করেন ১১,০৩,৮৮০/-টাকা। মোট আয় ৮৪,৪৩,৮৯৫/-টাকা হতে পারিবারিক ব্যয় ১১,০৩,৮৮০/- টাকা বাদে তার নীট আয় (৮৪,৪৩,৮৯৫ – ১১,০৩,৮৮০)=৭৩,৪০,০১৫/-টাকা। অবশিষ্ট (১,৫২,৮৯,৬৫৭-৭৩,৪০,০১৫)=৭৯,৪৯,৬৪২/-টাকার সম্পদের বিপরীতে তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি, যা ঘুষ, দুর্নীতি ও অসাধু উপায়ে অর্জিত এবং জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ। ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ তিনি হস্তান্তর/রূপান্তর করত: জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া মোঃ ইব্রাহীম আলী তার পক্ষে নিজ কন্যা মোছাঃ তানজিলা আফরিনের নামে সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, পাবনায় রেজিস্ট্রীকৃত দলিল নং ৪৫৩১ তারিখ: ০৮/৪/২০১৮ খ্রিঃ মোতাবেক শালগাড়িয়া মৌজায় ১০৯৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও ১১০ বর্গফুটের কার পার্কিং স্পেস ক্রয় ২৫,০০,০০০/-টাকা ও পাবনা জেলার সদর উপজেলাধীন ভবানীপুর মৌজায় ২০১৮ সালে ০.৮১৩৪ একর জমি ক্রয় ৪,০৫,৪৮০/-টাকাসহ মোট ২৯,০৫,৪৮০/-টাকার স্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। তিনি একই নামে ৩০/৬/২০১৮ খ্রিঃ তারিখে সিটি ব্যাংক লিঃ, পাবনা শাখা, পাবনায় এফডিআর হিসাব নং ৪৩৯১৭৫২২৯৩০০১ তে স্থিতি ১,০০,০০,০০০/-টাকা ও সঞ্চয়ী হিসাব নং ২৮০১৭৫২২৯৩০০১ তে স্থিতি ৩০,৫৯,০৪৩/-টাকাসহ মোট ১,৩০,৫৯,০৪৩/- টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। এভাবে তিনি নিজ কন্যার নামে মোট (২৯,০৫,৪৮০ + ১,৩০,৫৯,০৪৩)=১,৫৯,৬৪,৫২৩/-টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন। উক্ত ১,৫৯,৬৪,৫২৩/- টাকার সম্পদের বিপরীতে ফরেন রেমিটেন্স ৭,২০,১০৯/-টাকা; যার মধ্যে আসামী মোঃ ইব্রাহীম আলীর আয়কর নথি নং ৭১৪৮৯৬৫১৬৭৫১/ বৈতনিক সার্কেল-৮, পাবনা’র ২০১৩-১৪ করবর্ষের আয়কর রিটার্ণে ৬,২০,৮৬৯/- টাকা প্রদর্শিত আছে। এক্ষেত্রে (৭,২০,১০৯-৬,২০,৮৬৯)=৯৯,২৪০/-টাকা মোছাঃ তানজিলা আফরিনের আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। অবশিষ্ট (১,৫৯,৬৪,৫২৩-৯৯,২৪০) = ১,৫৮,৬৫,২৮৩/- টাকার সম্পদের বিপরীতে তার বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি; যা আসামী মোঃ ইব্রাহীম আলীর ঘুষ, দুর্নীতি ও অসাধু উপায়ে অর্জিত এবং জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ। তিনি ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর/রূপান্তর করত: জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন করায় মোঃ ইব্রাহীম আলী, সদর সাব-রেজিস্ট্রার, পাবনার বিরুদ্ধে অর্জিত সর্বমোট (১,৫৩,০০,৯৭৯ + ১,৫৯,৬৪,৫২৩)=৩,১২,৬৫,৫০২/-টাকার সম্পদের মধ্যে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ হস্তান্তর/রূপান্তর করত: জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ (৭৯,৪৯,৬৪২ + ১,৫৮,৬৫,২৮৩)=২,৩৮,১৪,৯২৫/-(দুই কোটি আটত্রিশ লক্ষ চৌদ্দ হাজার নয়শত পঁচিশ) টাকার জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার দায়ে কমিশনের অনুমোদনক্রমে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন,২০১২ এর ৪(২) ধারায় দারুস সালাম থানা, ডিএমপি, ঢাকায় মামলা নং ২২ তারিখ ১৫/১০/২০১৮.তারিখ ১৫/১০/২০১৮ রুজু করা হয়। মোট অবৈধ সম্পদের পরিমাণ: ২,৩৮,১৪,৯২৫/-টাকা সম্পদ অর্জনকাল: ৫ বছরে (২০১৩ হতে ২০১৮ সাল এর মধ্যে)। অনুসন্ধানের তদারককারী কর্মকর্তা দুদক পাবনা অফিসের উপ-পরিচালক মো: আবুবকর সিদ্দিক মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর এই মামলা দায়ের করা হয়। আসামী যেহেতু সরকারি কর্মকর্তা তাই মামলা দায়েরের পর তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।