Goodman Travels

পাবনায় নারী সাংবাদিক হত্যা : ৬ কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে একটি চক্র !

বার্তা সংস্থা পিপ (পাবনা) : পাবনার নারী সাংবাদিক, অনলাইন পোর্টাল ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলা’র সম্পাদক ও প্রকাশক এবং আনন্দ টিভির পাবনা জেলা প্রতিনিধি সুর্বণা নদী ওরফে শম্পা হত্যার একমাস গতকাল শুক্রবার অতিবাহিত হয়। গত ২৮ আগষ্ট রাতে পাবনা শহরের রাধানগর মহল্লার ভাড়া বাসার সামনে সশ¯্র সন্ত্রাসীদের চাপাতির এলোপাতারী কোপে সে নির্মমভাবে নিহত হয়। জান্নাত নামে নদীর ৭ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
দীর্ঘ এক মাসেও নদী হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম প্রধান আসামী সাবেক স্বামী রাজিবুল ইসলাম রাজিবকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। এমনিক রাজিব কোথায় আছে তারও কোন হদিস পায়নি পুলিশ। তবে পুলিশ এ ঘটনায় ঘটনার দিনই পুলিশ নদীর সাবেক শশুড় পাবনার শিমলা হাসপাতাল এন্ড ডায়গনেস্টিক সেন্টার এবং ইড্রাল ফার্মাসিটিউক্যালসের মালিক শিল্পপতি আবুল হোসেন কে এবং গত ১৫ সেপ্টেম্বর র‌্যাব এজাহারভুক্ত ৩ নং আসামী সামসুজ্জামান মিলনকে ঢাকার আরমানিটোলা থেকে গ্রেফতার করে। আবুল হোসেনকে কে তিনদিনের এবং মিলনকে একদিনের রিমান্ডে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে তাদের কাছ থেকে কোন তথ্য আদায় করতে পারেনি পুলিশ। তারা এখন পাবনা কারাগারে আছেন।
সুত্র জানায়, দীর্ঘ এক হলেও পুলিশ এই মামলা, হত্যার কারণ এবং কারা প্রকৃত হত্যাকারী বা বা কারা পেছনের মদদদাতা তাদের সম্পর্কে এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোন তথ্য জানাতে পারেনি। তবে এই হত্যাকান্ডে আবুল পরিবারের সহায়তায় তৃতীয় কোন শক্তি ভাড়াটিয়া হিসেবে হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে কাজ করছে পুলিশ।
একটি সুত্র জানায়, নদী হত্যা মামলা ধংস, আবুলকে বাঁচাতে এবং মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার প্রয়াস বা মিশন নিয়ে একটি চক্র মাঠে নামে। এ জন্য আল আবুল হোসেনের আরাফাহ ব্যাংক পাবনা শাখার হিসেবের ৬ কোটি টাকার একটি চেক জেলা প্রশাসন ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রের মাধ্যমে পাবনা কারাগারে আবুল হোসেনের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু দুদক পাবনা অফিসের উপ-পরিচালক আবু বকর ছিদ্দিক জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এবং জেল কর্তৃপক্ষকে ঐ চেক স্বাক্ষর না করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু এর পরেও বুধবার জেলে বসেই আবুল হোসেন ৬ কোটি টাকার চেক স্বাক্ষর করেন। পাবনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মো: জসিম উদ্দিন কারাগারের অভ্যন্তর থেকে ৬ কোটি টাকার চেক স্বাক্ষরের সত্যতা স্বীকার করে বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, এই ৬ কোটি টাকার চেক স্বাক্ষরের ব্যাপারে প্রথমে দুদক আপত্তি দেওয়ায় প্রথমে তা স্বাক্ষর হয়নি। পরে বুধবার এটি স্বাক্ষর করা হয়। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট জানান, আবুল হোসেনের কোম্পানীর প্রয়োজনে এবং ব্যাংক এডজাষ্টমেন্টের জন্য এই চেক স্বাক্ষর করতে অনুমতি দেওয়া হয়।
‘মরার আগ মুহুর্তে হত্যকারীদের নাম বলে যান সুর্বণা নদী ওরফে শম্পা (৩০)। নদীর প্রাক্তন স্বামী স্বামী রাজিবুল ইসলাম রাজিব ও তার সহকারী মিলনসহ ৪/৫ জন মোটর সাইকেল থেকে তার উপর হামলা চালায় এবং চাপাতি দিয়ে এলোপাথারী কোপায়। হাসপাতালে নেওয়ার আগে তার মা মর্জিনা খাতুন ও বোন চম্পা খাতুনের কাছে সে প্রাথমিক জবানবন্দি দিয়ে যায়। নদীর মা মর্জিনা খাতুন গতকাল বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা পিপ‘কে আবারও এ সব তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর আগে দেওয়া এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সে আবুল হোসেন, তার ছেলে রাজিবুল ইসলাম রাজিব এবং সহযোগি সামসুজ্জমান মিলনের নাম উল্লেখসহ আরও ৭/৮ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ৯৩। তারিখ ২৯-০৮-২০১৮।
নদীর মা মর্জিনা খাতুন আরও বলেন, বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকেই প্রানহানীর শংকায় ভুগতেন নদী। গত বছর নিজের এবং তার সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেন। তিনি ঐ সময় বলেছিলেন তার শশুর আবুল হোসেন অনেক টাকার মালিক তিনি লোক দিয়ে যে কোন সময় তাকে হত্যা বা গুম করতে পারে। তা ছাড়া স্বামী এবং শশুড়ের বিচারের দাবীতে প্রায়ই নিজ ফেসবুকে লিখতেন।
নিহত নদীর বোন চম্পা বার্তা সংস্থা পিপ‘কে জানান, পাবনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের ছেলে রাজিব হোসেনের সাথে ২০১৬ সালের ৬ জুন সূবর্ণার বিয়ে হয়। বিয়ের বছর খানের যেতেই তাদের ছাড়াছাড়িও হয়ে যায়। ছাড়াছাড়ির পরপরই সুবর্ণা নদী পাবনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে রাজিবের বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে একটির মামলা করে। মামলায় তার সাবেক স্বামী রাজিব, শ্বশুড় আবুল হোসেনসহ তিনজনকে আসামী করা হয়। নদীর হত্যার দিন ওই মামলার সাক্ষ্য দেয়ার নির্ধারিত দিন ছিল। আদালতে সকালে নদী তার সাক্ষ্য প্রদানও করেন। নিহত নদীর বোন চম্পা আরও বলেন, আর বোন সাংবাদিক হলেও সংবাদ প্রকাশের কারণে তাকে মরতে হয়নি। তাকে জীবন দিতে হয়েছে আবুলের ছেলেকে ভালবেসে বিয়ে করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পাবনা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক অরবিন্দ সরকার বার্তা সংস্থা পিপ‘কে বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত তিনজনের মধ্যে দু‘জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজিবকে ধরতে পাবনা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। খুব শিগগির তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।