Goodman Travels

এক নজরে পাবনা

বাংলাদেশে অবস্থিত পাবনা জেলা রাজশাহী বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব কোণ সৃষ্টি করেছে। এটি ২৩°৪৮′ হতে ২৪°৪৭′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°০২′ হতে ৮৯°৫০′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। এর উত্তর দিক ঘিরে আছে সিরাজগঞ্জ জেলা আর দক্ষিণে পদ্মা নদী একে ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া জেলা হতে পৃথক করেছে। এর পূর্ব প্রান্তদিয়ে যমুনা নদী বয়ে গেছে এবং পশ্চিমে নাটোর জেলা। পাবনার কাজীরহাট নামক স্থানে পদ্মা ও যমুনা নদী পরস্পর মিলিত হয়েছে।

পাবনা জেলা নিম্নলিখিত উপজেলায় বিভক্ত:

  1. আটঘরিয়া উপজেলা
  2. ঈশ্বরদী উপজেলা
  3. চাটমোহর উপজেলা
  4. পাবনা সদর উপজেলা
  5. ফরিদপুর উপজেলা
  6. বেড়া উপজেলা
  7. ভাঙ্গুরা উপজেলা
  8. সুজানগর উপজেলা
  9. সাঁথিয়া উপজেলা

ইতিহাস[সম্পাদনা]

১৮২৮ খ্রিস্টাব্দের ১৬ অক্টোবর স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে পাবনা স্বীকৃতি লাভ করে। ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দের দিকে জেলার বেশির ভাগ অংশ রাজশাহী জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। তখনকার দিনে এসব এলাকায় সরকারের দায়িত্বপূর্ণ কর্মচারীদের খুব অভাব ছিল। পুলিশের অযোগ্যতা এবং জমিদারদের পক্ষ থেকে ডাকাতি ঘটনার তথ্য গোপন রাখা বা এড়িয়ে যাওয়া হতো। গ্রামাঞ্চলে ডাকাতেরা দলে দলে ঘুরে বেড়াত। চলনবিল এলাকায় জলদস্যুদের উপদ্রব চলছিল দীর্ঘ দিন ধরে। এদের প্রতিরোধ করতে ও শাসনতান্ত্রিক সুবন্দোবস্তের জন্যে কোম্পানি সরকারের মন্তব্য অনুসারে পাবনায় সামগ্রিক ভাবে ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে তা স্থায়ী রূপ লাভ করে এবং তাকে স্বতন্ত্র ডিপুটি কালেক্টর রুপে নিয়োগ করা হয়।

রাজশাহী জেলার ৫টি থানা ও যশোর জেলার ৩টি থানা নিয়ে সর্ব প্রথম পাবনা জেলা গঠিত হয়। সময় সময় এর এলাকা ও সীমানার পরিবর্তন ঘটেছে। ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দের ২১ নভেম্বর যশোরের খোকসা থানা পাবনা ভুক্ত করা হয়। অন্যান্য থানা গুলোর মধ্যে ছিল রাজশাহীর খেতুপাড়া, মথুরা, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ ও পাবনা। ‘যশোরের চারটি থানা ধরমপুর, মধুপুর, কুস্টিয়া ও পাংশা’। তখন পশ্চিম বাংলার মালদহ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ ডব্লিউ মিলস জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিযুক্ত হন পাবনায়। ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে সেশন জজের পদ সৃষ্টি হলে এ জেলা রাজশাহীর দায়রা জজের অধীনে যায়। ১৮৪৮ খৃস্টাব্দের ১৭ অক্টোবর জেলার পূর্ব সীমা নির্দিস্ট করা হয় যমুনা নদী। ১২ জানুয়ারি ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জ থানাকে মোমেনশাহী জেলা থেকে কেটে নিয়ে ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে মহকুমায় উন্নীত করে পাবনা ভুক্ত করা হয়। নিযুক্ত করা হয় ডিপুটি ম্যাজিস্ট্রেট। এর ২০ বছর পর রায়গঞ্জ থানা এ জেলায় সামিল হয়।

নীল বিদ্রোহ চলাকালে শান্তি শৃংখলার অবনতি হলে লর্ড ক্যানিং ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে জেলায় একজন কালেক্টর নিযুক্ত করেন। এর আগে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে জেলা প্রশাসক হয়ে আসেন টি.ই. রেভেন্স। ১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে সিরাজগঞ্জ ও ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে পাবনায় মিউনিসিপ্যালিটি গঠিত হয়। ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে প্রবর্তিত হয় জেলা বোর্ড। যখন কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে তখন স্বভাবতই এ জেলা ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে বৃটিশ সাম্রাজ্যের সম্রাজ্ঞী মহারাণী ডিক্টোরিয়ার শাসনাধীনে চলে যায়। ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে পাংশা, খোকসা ও বালিয়াকান্দি এই তিনটি থানা নিয়ে পাবনার অধীনে কুমারখালী মহকুমা গঠন করা হয়। ১৮৬৩ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়া থানা এ জেলা হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে নদীয়া জেলার অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে পাংশা থানা ফরিদপুর জেলার গোয়ালন্দ মহকুমায় এবং কুমারখালী থানা কুষ্টিয়া মহকুমার সাথে সংযুক্ত করা হয়। এ ভাবে এ জেলার দক্ষিণ সীমানা হয় পদ্মা নদী। ১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দে কুমারখালী থানা সৃষ্টি হলে তা ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে পাবনার একটি মহকুমা হয়। ১৮৭১ খ্রিস্টাব্দে মহকুমা অবলুপ্ত করে কুষ্টিয়া মহকুমার অংশ করা হয়। ১৮৭৯ তে জজ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। এর আগে কয়েকটি থানা বদলে যায়।

পাবনা নামের উদ্ভব সম্পর্কে বিশেষ ভাবে কিছু জানা যায় না। তবে বিভিন্ন মতবাদ আছে। প্রত্নতাত্মিক কানিংহাম অনুমান করেন যে, প্রাচীন রাজ্য পুন্ড্র বা পুন্ড্রবর্ধনের নাম থেকে পাবনা নামের উদ্ভব হয়ে থাকতে পারে। তবে সাধারণ বিশ্বাস পাবনী নামের একটি নদীর মিলিত স্রোত ধারার নামানুসারে এলাকার নাম হয় পাবনা।

সাধারণ তথ্যাবলী

আয়তনঃ

২,৩৭১.৫০ বর্গ কিঃ মিঃ
লোকসংখ্যাঃ ২২,৬০,৫৪০
(ক) পুরুষ

(খ) মহিলাঃঃ

১১,৫৬,৮০৯

১১,০৩,৭৩১

খানার সংখ্যাঃ ৪,৪২,০৪৯ টি
উপজেলার সংখ্যাঃ ৯ টি
থানার সংখ্যাঃ ১১ টি
পৌরসভার সংখ্যাঃ ৯ টি (আটঘরিয়া পৌরসভা-নবগঠিত)
ইউনিয়নের সংখ্যাঃ ৭৪ টি
গ্রামের সংখ্যাঃ ১,৫৪৯ টি
মৌজার সংখ্যাঃ ১,৩২১ টি
ডাকঘরঃ ১৪৫ টি
টেলিফোন অফিসঃ ৯ টি
ডাকবাংলো ও রেষ্ট হাউজঃ ১৬ টি
সরকারী শিশু সদনঃ ১ টি
স্টেডিয়ামঃ ৩ টি
পাবলিক লাইব্রেরীঃ ৩ টি
মসজিদঃ ২,১১২ টি
মন্দিরঃ ৩৪৫ টি
গীর্জাঃ ৯ টি
সেবা আশ্রমঃ ২ টি
নদী বন্দরঃ ৩ টি
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধঃ ১ টি
আধুনিক সুইমিং পুলঃ ১ টি
বিমান বন্দরঃ ১ টি (বর্তমানে চালু নেই )
দৈনিক পত্রিকাঃ ৭ টি
সাপ্তাহিক পত্রিকাঃ ৬ টি
এন,জি,ও শাখাঃ ৫১
উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থানঃ লালন শাহ্ সেতু, হার্ডিঞ্জ ব্রীজ, মানসিক হাসপাতাল, জোড় বাংলো, আজিম চৌধুরীর জমিদার বাড়ী (দুলাই), শাহী মসজিদ (ভাড়ারা), শ্রী শ্রী অনুকৃল চন্দ্র ঠাকুরের আশ্রম, নর্থ বেঙ্গল পেপার মিলস্, বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা কেন্দ্র, পাবনা সুগার মিল্স, ঈশ্বরদী বিমান বন্দর, কৃষি ফার্ম, নগরবাড়ী/ নটাখোলা ঘাট, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল।

রাজস্ব বিষয়ক

উপজেলা ভূমি অফিসঃ ৯ টি
ইউনিয়ন ভূমি অফিসঃ ৫৮ টি
পৌর ভূমি অফিসঃ ৮ টি
খাস জমির পরিমাণঃ ৬,৯২৬.৯৬১১ একর
ক) কৃষিঃ ৬,৮৪৭.৮৬১১ একর
খ) অকৃষিঃ ৭৯.১০ একর
জলমহালঃ ১১৮ টি
আদর্শ গ্রাম ( প্রকল্প-১)ঃ ২৩ টি ( প্রথম পর্যায়ে বাস্তবায়িত )
উপকার ভোগী পরিবারঃ ৮১১
আদর্শ গ্রাম (প্রকল্প-২)
প্রেরিত প্রস্তাবঃ ৭ টি
অনুমোদিতঃ ৭ টি
জমির পরিমাণঃ ১৬৬.৮৫ একর
আশ্রয়ন ঃ ১০ টি ; পরিবার- ৫৭০ টি
আবাসনঃ ৩ টি ; পরিবার- ৫০ টি + ৩০টি =৮০ টি।
মৌজাঃ ১,৩২১ টি

শিক্ষা বিষয়ক

প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ ১,০৮৬ টি
ক) সরকারীঃ ৬৬৪ টি
খ) বেসরকারীঃ ৪২২ টি
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ২০২ টি
ক) সরকারীঃ ৩ টি
খ) বেসরকারীঃ ১৯৯ টি
নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৪৯ টি
মাদ্রাসাঃ ১২৯ টি
বিশ্ববিদ্যালয় কলেজঃ ১ টি
মহাবিদ্যালয়ঃ ৪৮ টি

ক) সরকারী:

৪ টি
খ) বেসরকারীঃ ৪৪ টি
মেডিক্যাল কলেজঃ ১ টি
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ঃ ১ টি
সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ৩ টি
ক্যাডেট কলেজঃ ১ টি
পলিটেকনিক ইনষ্টিটিটঃ ১ টি
ভোকেশনাল ইনষ্টিটিউটঃ ১ টি
কমার্শিয়াল ইনষ্টিটিউটঃ ১ টি
আইন কলেজঃ ১ টি
প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষক ইনষ্টিটিউটঃ ১ টি
টেক্সটাইল ইনষ্টিটিউটঃ ১ টি
সেবিকা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রঃ ১ টি
হোমিওপ্যাথিক কলেজঃ ১ টি
মক্তব/ ফোরকানিয়া মাদ্রাসাঃ ২৬৪ টি